সুন্দরবন (গদখালি হয়ে)
রাস্তার অংশ কম, আসল ট্রিপ নৌকায়। গাড়িতে গদখালি জেটি, তারপর দুই দিন খাঁড়ির ভিতরে লঞ্চ। বাঘ দেখা ভাগ্যের কথা, কিন্তু পাখি, কাঁকড়া আর চুপচাপ পরিবেশটা নিশ্চিত।
পুজো আর লম্বা ছুটির গাড়ি আগেই শেষ হয়ে যায়। তারিখটা এখনই বলে রাখুন।
ঘোরার গাইড
দুই দিনের ট্রিপ আর এক দিনের ট্রিপ আলাদা জিনিস। ১২০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার দূর যাওয়া যায়, এক রাত থাকা যায়, আর দুপুরের বদলে সকালের আলোয় জায়গাটা ভালোভাবে দেখা যায়। এই আটটাই শনিবার সকাল থেকে রবিবার রাত, শুধু রাস্তায়, ট্রেনের টিকিট বা প্লেন লাগে না।
ঘোরার গাইড
ঘোরার গাইড
দূরত্ব মধ্য কলকাতা থেকে রাস্তার দূরত্ব, রুট ডেটা দেখে মিলিয়ে নেওয়া।
রাস্তার অংশ কম, আসল ট্রিপ নৌকায়। গাড়িতে গদখালি জেটি, তারপর দুই দিন খাঁড়ির ভিতরে লঞ্চ। বাঘ দেখা ভাগ্যের কথা, কিন্তু পাখি, কাঁকড়া আর চুপচাপ পরিবেশটা নিশ্চিত।
বালির দ্বীপে তাঁবুতে থাকা, কংক্রিটের হোটেল নেই, একদিকে সমুদ্র আর একদিকে নদী। শেষটায় ছোট একটা পার হতে হয়, তাই ব্যাগ হালকা রাখুন। যাঁদের এসি ছাড়া চলে না, তাঁদের জন্য নয়।
সবচেয়ে কাছের সমুদ্র, যেখানে দোকান ছাড়া এক কিলোমিটার হাঁটা যায়। ১৪ কিলোমিটার দূরে হেনরি আইল্যান্ডে ওয়াচটাওয়ার আর ম্যানগ্রোভের রাস্তা আছে, যেটা এক দিনের লোকেরা দেখেই যায় না।
দাদু-দিদিমা সঙ্গে থাকলে সবচেয়ে সহজ উইকএন্ড। ক্যাম্পাসের ভিতরে পরিষ্কার ঘর, খাওয়ার ব্যবস্থা, সকাল আর সন্ধের দুই আরতি, সামনে গঙ্গা। নবদ্বীপ ফেরিতে পার হলেই।
মল্ল রাজাদের তৈরি টেরাকোটা মন্দির, সবই কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে, সঙ্গে বালুচরি শাড়ি আর দলমাদল কামান। রাসমঞ্চের কাছে একজন গাইড নিন, না হলে কাজগুলো শুধু ইটই থেকে যাবে।
শনিবার সবচেয়ে ভালো, কারণ বিকেলে সোনাঝুরির খোয়াই মেলা বসে। সঙ্গে কঙ্কালীতলা আর কোপাই নদী রাখুন, মন্দিরও চাইলে তারাপীঠ আরও ৬০ কিলোমিটার।
বালির উপর হোটেল আর ভিড় চাইলে মন্দারমণি, একই সমুদ্র কম লোক নিয়ে চাইলে ২০ কিলোমিটার দূরে তাজপুর। জোয়ারের সময় বিচে গাড়ি নামাবেন না, হোটেলের ছেলে যা-ই বলুক।
শালের জঙ্গল, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি, চিল্কিগড়ের কনক দুর্গা মন্দির আর ডুলুং নদী। পরের দিন সকালে পাহাড় চাইলে এখান থেকে বেলপাহাড়ি আর কাঁকড়াঝোর আরও ৪০ কিলোমিটার।
সাধারণ উইকএন্ডে চার-পাঁচ দিন আগে বললেই হয়। লম্বা ছুটি, বড়দিনের সপ্তাহ, ৩১ ডিসেম্বর, দোল বা পুজোর দিনে সমুদ্রের হোটেল আর সুন্দরবনের লঞ্চ তিন-চার সপ্তাহ আগেই চলে যায়, যা পড়ে থাকে তার দাম বেশি। মৌসুনিতে বিশেষ কোনো তাঁবু বা সুন্দরবনে অ্যাটাচ বাথরুমের লঞ্চ চাইলে আগে বলুন, আমরা ধরে রাখি।
পুরোটা একবারে জিজ্ঞেস করুন: দুই দিনের গাড়ি, ড্রাইভার সঙ্গে থাকবে, সব টোল আর পার্কিং, আর হোটেলটা আমরা করলে সেটাও। তাহলে রবিবার সন্ধেয় নাইট হল্টের টাকা নিয়ে কেউ ঝগড়া করে না। বেরোনোর আগেই পুরো টাকাটা হোয়াটসঅ্যাপে লিখে দিই, পরে বদলায় না।
ঘোরার গাইড
ছোট কয়েকটা কথা, যার উপর নির্ভর করে দিনটা ভালো কাটবে না ক্লান্তিতে যাবে।
শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার আগে কলকাতা ছাড়ুন। ৮টার পর কোনা এক্সপ্রেসওয়ে আর বাসন্তী রোড, দুটোতেই এক ঘণ্টা বেশি লাগে।
সুন্দরবন আর মৌসুনির জন্য মাথাপিছু একটা নরম ব্যাগ রাখুন। দুই জায়গাতেই নৌকা আর ব্যাগ হাতে একটু হাঁটা আছে।
ফেরার সময় হাতে কিছু সময় রাখুন। রবিবার সন্ধেয় শহরে ঢোকার জ্যাম যাওয়ার পুরো রাস্তার চেয়ে খারাপ।
এখানে দূরত্ব আর সময় রুট ডেটা দেখে মিলিয়ে নেওয়া, তারপর সত্যিকারের যানজট ধরে একটু বাড়িয়ে লেখা। সময়, ফেরির সময় আর ঢোকার নিয়ম সিজন অনুযায়ী বদলায়, তাই যাওয়ার আগের দিন একবার জিজ্ঞেস করুন, সেই সপ্তাহে রাস্তা কেমন আমরা বলে দেব।
ঘোরার গাইড
আমাদের তালিকায় এই গাইডের সঙ্গে মেলে এমন ট্রিপ। গাড়ি বাড়ির সামনে থেকে ছাড়ে।
ঘোরার গাইড
এক দিনের ট্রিপ ভালো হয় যদি গাড়ি সকালে আপনার পাড়া থেকেই বেরোয়।
প্রশ্ন
সুন্দরবন আর শান্তিনিকেতন। নভেম্বর থেকে সুন্দরবনের খাঁড়ি শান্ত থাকে আর পাখি সবচেয়ে বেশি, শান্তিনিকেতনে সোনাঝুরির মেলা আর পৌষমেলার আবহাওয়া। সমুদ্রও ভালো লাগে, তবে তখনই ভিড় সবচেয়ে বেশি।
দুজনের জন্য সাধারণত নয়। চার জন বা তার বেশি হলে সাধারণত হ্যাঁ, কারণ যাওয়া-আসার টিকিট, দুই দিকের অটো আর ওখানে ঘোরার জন্য যে গাড়ি এমনিতেই নিতে হবে, সব যোগ করতে হয়। কত জন যাচ্ছেন লিখে পাঠান, আপনার দলের জন্য কোনটা ভালো পড়বে সত্যি কথাটাই বলে দেব।
হ্যাঁ। দুই দিনের ট্রিপে একই ড্রাইভার আর গাড়ি আপনার সঙ্গে থাকে, তাই ভোরে বা হঠাৎ প্ল্যান বদলালেও গাড়ি হাতে থাকে। তার থাকা-খাওয়া আমরা যে দাম বলি তার মধ্যেই ধরা, পরে আলাদা চাওয়া হয় না।
তবুও ভাবছেন? তারিখটা পাঠিয়ে দিন। না পারলে সোজা বলে দেব
ঘোরার গাইড
গাড়ি লাগবে
তারিখ আর কত জন যাচ্ছেন লিখে পাঠান। কোন গাড়িতে হবে, ক’টায় বেরোনো ভালো আর পুরো দাম লিখে জানিয়ে দিই, তারপর আপনি ঠিক করবেন।