ভিসার ফাইল, পাশে বসে
কী কী কাগজ লাগবে, ফর্ম, ছবি, ব্যাঙ্কের কাগজ আর অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ, সব ধাপে ধাপে করি আর যতটা সম্ভব কাগজ বাড়ি থেকেই নিয়ে আসি। ভিসা দেবে কি না সেটা দূতাবাস ঠিক করে, আমরা নয়। আমরা কখনও উল্টো কথা বলি না।
পুজো আর লম্বা ছুটির গাড়ি আগেই শেষ হয়ে যায়। তারিখটা এখনই বলে রাখুন।
ভিসার কাগজপত্র · CCU থেকে ফ্লাইট · বাড়ি থেকে পিকআপ
বিদেশ যেতে চাইলে আমাদের দিকের লোককে ট্রেন ধরে পার্ক স্ট্রিটের অফিসে যেতে হয়, তারপর ভিসার ফাইলের জন্য অচেনা লোকের পিছনে ঘুরতে হয়। আমরা এটাও বাকি সবকিছুর মতোই করি। একটাই WhatsApp কথাবার্তা, কাগজ বাড়ি থেকে নেওয়া, কলকাতা থেকেই ফ্লাইট, টাকা দেওয়ার আগেই হোটেলের নাম, আর যাওয়া-আসা দু’দিকেই দমদম পর্যন্ত আমাদের নিজের গাড়ি।

কেন স্থানীয় থেকেই বুক করবেন
দিন ধরে প্ল্যান বানানো সহজ, ওটা সবার কাছেই থাকে। ট্রিপ শান্তিতে হবে কি না ঠিক করে দেয় একটাই জিনিস: ভিসার তারিখ পিছিয়ে গেলে বা ফ্লাইট বাতিল হলে ফোনটা কে ধরে।
কী কী কাগজ লাগবে, ফর্ম, ছবি, ব্যাঙ্কের কাগজ আর অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ, সব ধাপে ধাপে করি আর যতটা সম্ভব কাগজ বাড়ি থেকেই নিয়ে আসি। ভিসা দেবে কি না সেটা দূতাবাস ঠিক করে, আমরা নয়। আমরা কখনও উল্টো কথা বলি না।
সব প্ল্যান হয় কলকাতার ফ্লাইট ধরে। সোজা ফ্লাইট থাকলে সেটাই, না থাকলে একটা সুবিধের স্টপ। আমরা অপশনটা ধরে রেখে আপনাকে দেখাই। আপনি হ্যাঁ না বলা পর্যন্ত টিকিট কাটা হয় না।
টাকা দেওয়ার আগেই আসল হোটেলের নাম আর জায়গা পাবেন, তাই নিজে দেখে নিতে পারবেন। ওই হোটেল না পেলে বলে দিই আর নতুন দাম দিই। চুপচাপ বদলে দিই না।
এই অংশটাই অন্য এজেন্সিরা বাদ দেয়। যাওয়ার দিন আমাদের নিজের গাড়ি পরিবারকে দমদমে পৌঁছে দেয়, আর রাত দুটোয় ফিরলেও গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে। যে গাড়িগুলো আপনি এমনিতেই নেন, সেগুলোই।
ট্রিপের আগে, ট্রিপের সময় আর ট্রিপের পরে, WhatsApp-এ একজনই লোক দেখে। ব্যাঙ্কক বা পারো-তে কিছু গোলমাল হলে নিজের ভাষায় এমন কাউকে বলবেন, যে আপনার বুকিং জানে।
হানিমুন, বাবা-মা আর বাচ্চা নিয়ে পরিবার, বন্ধুদের দল, অফিসের ট্রিপ। প্ল্যান হয় আপনার দলের জন্য, আপনার গতিতে, আর খাওয়াদাওয়ার পছন্দও লেখা থাকে।
দামে কী কী থাকে
আমরা এখনও দাম ছাপাই না, কারণ বিদেশ ট্রিপের খরচ ফ্লাইটের সিট, সিজন আর হোটেলের ধরন অনুযায়ী বদলায়। যেটা বদলায় না, সেটা হলো দাম কীভাবে সাজানো হয়।
দামে ধরা আছে
আলাদা লাগবে, আগেই বলে দেওয়া হয়
প্লেনের টিকিট, ভিসা জমা দেওয়া আর বিদেশের ব্যবস্থা আমাদের পার্টনারদের দিয়ে করানো হয়। দায়িত্ব আর টাকার হিসেব আমাদের কাছেই থাকে, আর কিছু বুক হওয়ার আগেই আপনি সব মিলিয়ে একটাই দাম লিখে পান।
কীভাবে হয়
গন্তব্য, বা শুধু “ডিসেম্বরে গরম কোথাও”, মোটামুটি তারিখ, ক’জন বড় ও ছোট, আর পাসপোর্ট তৈরি আছে কি না।
দিন ধরে প্ল্যান, হোটেলের নাম আর ফ্লাইটের অপশন পাবেন, সঙ্গে সব মিলিয়ে একটাই দাম। মাথাপিছু কম দেখানো সংখ্যা নয়।
আপনার সঙ্গে বসে ভিসার ফাইল তৈরি করে জমা দিই। প্ল্যান আর দামে আপনি রাজি হলেই ফ্লাইট আর হোটেল বুক হয়।
আমাদের গাড়ি এয়ারপোর্ট পর্যন্ত পৌঁছে দেয়, আর সেই একজন লোকই ফেরা পর্যন্ত WhatsApp-এ থাকেন।
নমুনা পরিকল্পনা
এগুলো শুধু শুরুর প্ল্যান, বাঁধা প্যাকেজ নয়। কত রাত, কোন হোটেল আর কী কী ঘোরা হবে, দাম দেখার আগেই আপনার তারিখ আর দল অনুযায়ী বদলে নেওয়া হয়।
দিন ১ — পৌঁছে থিতু হওয়া
কলকাতা থেকে দুবাই, নেমেই দেখা, হোটেলে চেক-ইন, সন্ধেয় মেরিনা বা ক্রিকে ধাও ডিনার ক্রুজ।
দিন ২ — শহর
পুরনো দুবাই আর সুক, রাস্তা থেকে মিউজিয়াম অফ দ্য ফিউচার, বুর্জ খলিফার স্লট আর রাতে ফাউন্টেন শো।
দিন ৩ — মরুভূমি
বিকেলে ডিউন ড্রাইভ, উটে চড়া, বারবিকিউ ডিনার আর ডেজার্ট ক্যাম্পের শো।
দিন ৪ — দ্বীপ বা পার্ক
পাম ও আটলান্টিস, নয়তো বাচ্চাদের নিয়ে সারাদিন থিম পার্ক। চাইলে আবুধাবি আর গ্র্যান্ড মস্ক।
দিন ৫ — ফেরা
সকালটা কেনাকাটার জন্য, তারপর এয়ারপোর্ট — দমদমে আমাদের গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে।
দিন ১ — ব্যাঙ্ককে পৌঁছনো
নেমে ট্রান্সফার, হালকা সন্ধে — আসিয়াতিকে হাঁটা, বা ফ্লাইটের পর তাড়াতাড়ি বিশ্রাম।
দিন ২ — ব্যাঙ্কক শহর
সকালে গ্র্যান্ড প্যালেস ও ওয়াট অরুণ, নদীতে ফেরি, সন্ধেয় বাজার।
দিন ৩ — পাটায়ার দিকে
পথে একটা স্টপ নিয়ে গাড়িতে পাটায়া, সমুদ্রের ধারে সন্ধে, চাইলে শো।
দিন ৪ — কোরাল আইল্যান্ড
স্পিডবোটে কোহ লার্ন, যাঁরা চান তাঁদের জন্য ওয়াটার স্পোর্টস, দ্বীপে দুপুরের খাওয়া।
দিন ৫ — ব্যাঙ্ককে ফেরা
স্যাংচুয়ারি অফ ট্রুথ দেখে ফেরা, শেষ একবার কেনাকাটার সময় রেখে।
দিন ৬ — ফেরা
সুবর্ণভূমিতে ট্রান্সফার আর কলকাতার ফ্লাইট।
দিন ১ — পৌঁছনো
নেমে ট্রান্সফার, সন্ধেয় মেরিনা বে-তে আলো আর জলের শো।
দিন ২ — সিটি ট্যুর
মারলায়ন, চায়নাটাউন, লিটল ইন্ডিয়া, সন্ধেয় গার্ডেনস বাই দ্য বে-র ডোম।
দিন ৩ — সেন্তোসা
কেবল কারে যাওয়া, ইউনিভার্সাল স্টুডিওজ বা অ্যাকোয়ারিয়াম, অন্ধকার হলে উইংস অফ টাইম।
দিন ৪ — ফাঁকা দিন বা জোহর
জু, জুরং, নাইট সাফারি — নয়তো মালয়েশিয়া যোগ করে একদিনের জোহর।
দিন ৫ — ফেরা
হাতে সময় রেখে চাঙ্গি, আর কলকাতায় আমাদের গাড়ি।
দিন ১ — সীমান্তের দিকে
বাড়ি থেকে পিকআপ, রাতে হাসিমারা বা জয়গাঁ, ফুন্টশোলিংয়ে রাত।
দিন ২ — পারমিট আর থিম্পু
সকালে পারমিটের কাজ, তারপর চুখা হয়ে থিম্পুর দিকে ওঠা।
দিন ৩ — থিম্পু
বুদ্ধ ডর্ডেনমা, মেমোরিয়াল চোর্তেন, তাকিন রিজার্ভ, দিন মিললে উইকেন্ড মার্কেট।
দিন ৪ — পুনাখা
দোচুলা পাস আর ১০৮ চোর্তেন, নদীর সঙ্গমে পুনাখা জং, ঝুলন্ত সেতু।
দিন ৫ — পারো
পারোয় গিয়ে রিনপুং জং, ন্যাশনাল মিউজিয়াম, সন্ধেটা শহরে।
দিন ৬ — তাকসাং
টাইগার্স নেস্টের হাঁটা, দল যতটা পারে সেই গতিতে; নিচের অংশে ঘোড়ার ব্যবস্থা।
দিন ৭ — ফেরা
সীমান্তে নেমে বাড়ির গেট পর্যন্ত — নয়তো রাস্তা এড়াতে চাইলে পারো থেকে কলকাতার ফ্লাইট।
দিন ১ — কাঠমান্ডুর দিকে
কলকাতা থেকে ফ্লাইট, বা চাইলে সুনৌলি হয়ে ট্রেন-গাড়ির পথ, তারপর চেক-ইন।
দিন ২ — পশুপতিনাথ ও বৌদ্ধনাথ
সকালে পশুপতিনাথ দর্শন, তারপর বৌদ্ধনাথ স্তূপ আর থামেলের গলি।
দিন ৩ — পোখরার দিকে
ত্রিশূলী নদীর পাশ দিয়ে লম্বা সুন্দর পথ, সন্ধেয় ফেওয়া লেক।
দিন ৪ — পোখরা
সারাংকোটে অন্নপূর্ণার উপর সূর্যোদয়, লেকে বোটিং, ডেভিস ফল আর গুহা।
দিন ৫ — মনকামনা বা ফাঁকা দিন
ফেরার পথে কেবল কারে মনকামনা মন্দির, নয়তো লেকের ধারে অলস একটা দিন।
দিন ৬ — কাঠমান্ডু
ফিরে পাটান বা ভক্তপুর দরবার স্কোয়্যার, আর বাড়ির লোকের জন্য কেনাকাটা।
দিন ৭ — ফেরা
ফেরার ফ্লাইট, আর টার্মিনাল থেকে দরজা পর্যন্ত আমাদের গাড়ি।
দিন ১ — দেনপাসারে পৌঁছনো
নেমে কুটা বা সেমিনিয়াকে ট্রান্সফার, প্রথম সন্ধেটা সমুদ্রের ধারে।
দিন ২ — দক্ষিণ বালি
পাহাড়ের কিনারে উলুওয়াতু মন্দির, সূর্যাস্তে কেচাক নাচ, ডিনারে জিমবারান।
দিন ৩ — নুসা পেনিদা বা ওয়াটার স্পোর্টস
ফাস্ট বোটে গিয়ে ক্লিফ ভিউপয়েন্ট, নয়তো তানজুং বেনোয়ায় বানানা বোট আর প্যারাসেইলিং।
দিন ৪ — উবুদ
ধানের সিঁড়ি খেত, মাঙ্কি ফরেস্ট, কফি বাগান, তারপর উবুদের হোটেলে।
দিন ৫ — কিন্তামানি ও মন্দির
বাতুর আগ্নেয়গিরির ভিউ, তির্তা এম্পুল, তেগেনুংগান জলপ্রপাত, ছবি চাইলে দোলনা।
দিন ৬ — তানাহ লট ও ফাঁকা সময়
স্পা, কেনাকাটা, আর ট্রিপ শেষ করতে তানাহ লটের সূর্যাস্ত।
দিন ৭ — ফেরা
এয়ারপোর্টে ট্রান্সফার আর কলকাতার ফ্লাইট।
বিদেশ ট্রিপের প্রশ্ন
কাগজের কাজটা আপনার সঙ্গে বসেই করি: কী কী লাগবে, ফর্ম, ছবি, ব্যাঙ্কের কাগজ আর অ্যাপয়েন্টমেন্ট। তারপর আমাদের ভিসা পার্টনারের মাধ্যমে জমা দিই। সিদ্ধান্ত নেয় দূতাবাস। যে ভিসার গ্যারান্টি দেয়, সে মিথ্যে বলছে।
ভিসা আর দূতাবাসের ফি ফেরত হয় না, আর টাকা দেওয়ার আগেই সেটা লিখে জানিয়ে দিই। বাকিটা নির্ভর করে বুকিং কতদূর হয়েছে। হোটেলের টাকা সাধারণত ফেরানো যায়, প্লেনের টিকিট এয়ারলাইনের নিয়মে চলে। আমরা আসল হিসেবটাই দেখাই, গোলমেলে উত্তর দিই না।
দুবাই, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম আর বালির জন্য ৩০–৪৫ দিন। নেপাল আর ভুটানে ভিসা লাগে না, তাই অনেক কম সময়। পুজো, ক্রিসমাস আর স্কুল ছুটিতে সমস্যা কাগজের নয়, ফ্লাইটের সিটের। ওই সময়ের জন্য দু-তিন মাস আগে বলুন।
যাওয়ার দিন থেকে পাসপোর্টে অন্তত ছ’মাস সময় থাকতে হবে আর দুটো ফাঁকা পাতা লাগবে। যত ছোট বাচ্চাই হোক, তার নিজের পাসপোর্ট লাগে। পাসপোর্টের সময় শেষ হতে চললে আগে রিনিউ করে পরে যান। আমরা সেই অনুযায়ী তারিখ ঠিক করে দেব।
এই দিক থেকে যেগুলোয় লোক বেশি যান: দুবাই, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, বালি, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল আর ভুটান। ইউরোপ, তুরস্ক, ইজিপ্ট বা তার বাইরের দেশ আমাদের পার্টনারদের দিয়ে করাই, ওতে সময় বেশি লাগে। তাই আগে বলুন, আর কী সম্ভব সোজা বলে দেব।
এই কাজটাই আমরা এখানে রোজ করি, আর বিদেশেও একইভাবে করি। দিনে কম জায়গা, সিঁড়ির বদলে লিফট, মানানসই খাওয়া, প্রতিটা এয়ারপোর্টে হুইলচেয়ার চেয়ে রাখা, আর রাতের ফ্লাইটের পরেই ছ’ঘণ্টার গাড়ির ধকল নয়।
না। এগুলো আপনার নিজের ট্রিপ। আপনার পরিবার বা দল, বিদেশে আপনাদের নিজের গাড়ি আর গাইড, আপনাদের নিজের গতি। খরচ কমাতে বড় দলের সঙ্গে যেতে চাইলে বলুন, আমরা খুঁজে দেখব।
তবুও ভাবছেন? তারিখটা পাঠিয়ে দিন। না পারলে সোজা বলে দেব
পরিষেবা
বিদেশ ভ্রমণ
প্ল্যান যদি শুধু “শীতে কখনও দুবাই, আমরা চারজন” হয়, তাতেও শুরু করা যায়। দিন ধরে প্ল্যান, হোটেলের নাম আর লিখিত একটা দাম পাবেন। তিনটেতেই খুশি না হলে টাকা দিতে হবে না।